August 9, 2026, 7:51 am

পেকুয়ায় স্বামী-স্ত্রী দম্পতি ও স্কুল ছাত্রীকে কুপিয়ে জখম

পেকুয়ায় স্বামী-স্ত্রী দম্পতি ও স্কুল ছাত্রীকে কুপিয়ে জখম

পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় স্বামী-স্ত্রী দম্পতি ও স্কুল ছাত্রীসহ ৩ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। স্থানীয়রা জখমীদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ১৯ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বিকেল ২ টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ভেলুয়ারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ভেলুয়ারপাড়ার মৃত কালু মিয়ার পুত্র ছৈয়দ নুর (৪২), তার স্ত্রী ৪ মাসের অন্ত:স্বত্তা পারভীন আক্তার (৩৩), মেয়ে টইটং উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী হালিমা জন্নাত সাইমা (১৩)। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বসতভিটার জায়গা নিয়ে ভেলুয়ারপাড়ায় মৃত কালু মিয়ার পুত্র ছৈয়দ নুর ও প্রতিবেশী মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র দুদু মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই দিন দুপুরের দিকে ছৈয়দ নুর নিজ বসতভিটায় মাটি ভরাট করছিলেন। এ সময় দুদু মিয়া ও তার স্ত্রী মারুফা বেগম এসে বাধা দেয়। এর সুত্র ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র দুদু মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো দা নিয়ে ছৈয়দ নুরের স্ত্রী পারভীন আক্তারকে মাথায় কুপিয়ে জখম করে। এ সময় স্ত্রীকে উদ্ধার করতে গিয়ে স্বামী ছৈয়দ নুর ও মেয়ে টইটং উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী হালিমা জন্নাত সাইমাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জখমীদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জখমী পারভীন আক্তারকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করে। এ ব্যাপারে পারভীন আক্তারের মা ছেনুয়ারা বেগম জানান, আমার মেয়ে ৪ মাসের অন্ত:স্বত্তা। ১২/১৩ বছর আগে মেয়ে ঘর জামাইয়ে আসে আমার বাড়িতে। আমার শাশুড়ের ৪ পুত্র ৩ কন্যা রয়েছে। পৈত্রিক বসতভিটার আয়তন প্রায় ৯৬ শতক। প্রতি বোনকে ২ শতক করে দেয়া হয়েছে। পৈত্রিক অংশের ২৪ শতক করে আমার স্বামীসহ ৪ ভাইয়ের মধ্যে বন্টন হয়েছে। আমার স্বামীর অংশ মেয়ের জামাই ছৈয়দ নুরকে বিক্রি করে দিয়েছি। আমরা ঘর করেছি মাঝেরপাড়ায়। মেয়েকে ওই দিন বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতে দুদু মিয়া হামলা করেছে। আমার মেয়ে মারাত্মক জখম। পারভীন আক্তারের পিতা গোলাম হোসেন বলেন, দুদু মিয়ার পরিবার খুনী পরিবার। ১৩ বছর আগে তারা আমার ছোট ভাই মাহামুদুল করিমের ছেলে জসিম উদ্দিনকে নিষ্ঠুরভাবে খুন করেছে। তারা এখন আমার মেয়ে ও মেয়ের জামাইকে খুন করার পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছে। পারভীন আক্তারের জেঠা আমির হোসাইন জানান, আমি বাড়িতে ছিলাম। সব অন্যায় আমার ভাই দুদু মিয়ার। একজন অসহায় মানুষের উপর জুলুম করছে। এ জায়গাটি আমরা ৪ ভাই ৩ বোনের। এটি আমার পিতাকে রায়তী হিসেবে তৎকালীন জমিদাররা দিয়েছিলেন। এখন গোলাম রহমানের অংশ থেকে উচ্ছেদ করে দেয়ার চেষ্টা করছে দুদু মিয়া। সে দিন এসে আমার ভাতিজি পারভীনকে এসে মাথায় আঘাত করেছে। এরপর দায় এড়ানোর জন্য নিজের স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে দুদু মিয়া। আসলে এটি নষ্টামি। টইটং ইউপির সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য দিলোয়ারা বেগম জানান, খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। আসলে এটি খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা। ৪ মাসের অন্ত:স্বত্তা নারী ও তার স্বামী, স্কুল পড়–য়া মেয়েকে হামলা করে জখম করেছে। চেয়ারম্যানের কাছে জায়গা নিয়ে বিচার আছে। পেকুয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com